রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা একটি যুগোপযোগী সংস্কার রূপরেখা, যার লক্ষ্য একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা। ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য।
নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সরকার গঠন করে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ পরিচালনা।
একটি সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন গঠন করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা রোধ করা।
একজন ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না — এ বিধান প্রবর্তন।
উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ নিয়ে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা করে আইন প্রণয়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে সকল নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা।
বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বাধীন করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
সংবিধানে বর্ণিত ন্যায়পালের পদ কার্যকর করে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বাধীন ব্যবস্থা চালু করা।
দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কার্যকর করে সকল পর্যায়ে দুর্নীতি নির্মূল করা।
দলীয়করণমুক্ত, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সেবার মান উন্নত করা।
পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করা।
সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষা।
গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা।
সুষম ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে বৈষম্য কমিয়ে সকল নাগরিকের জীবনমান উন্নত করা।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার বন্ধ করা।
মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে কর্মমুখী ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা চালু করা।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা।
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের মর্যাদা রক্ষা।
নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে সমাজের সর্বস্তরে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।
সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও জীবনমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
পরিবেশ দূষণ রোধ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত।
সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প ও জনজীবন সচল রাখা।
তথ্যপ্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
প্রবাসী কর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে তাঁদের রেমিট্যান্সে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি।
অসহায়, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ করা।
বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সকল মত ও পথের মানুষের অংশগ্রহণে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন।
৩১ দফা শুধু একটি সংস্কার কর্মসূচি নয়, এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। জনগণের অংশগ্রহণে এই রূপরেখা বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব।