শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন অবিস্মরণীয় নেতা। তিনি ১৯৭৮ সালে তাঁর ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সংস্কারের একটি সামগ্রিক পরিকল্পনা হিসেবে পরিচিত। এই কর্মসূচি দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ হিসেবে আজও প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সকল রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা।
১৯৭২ সালের শাসনতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করে জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন করা।
প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নিয়মিত নির্বাচন অনুষ্ঠান।
বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন করা এবং সকল ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সহ সকল মৌলিক মানবাধিকার এবং নাগরিকদের বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
সরকারি সব পর্যায়ে দুর্নীতি সম্পূর্ণ নির্মূল করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন।
গ্রামাঞ্চলে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন।
দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অর্জন।
সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি।
নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে সমাজের সর্বস্তরে মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
যুব সমাজের দক্ষতা উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তার মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে সমবায় পদ্ধতিকে শক্তিশালী করে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা।
ক্ষমতা ও সম্পদের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা সহজলভ্য করা।
মুসলিম বিশ্বের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করে ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক মুসলিম সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
সকল দেশের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ।
সকল কর্মসূচির সমন্বয়ে একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ।
শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁর স্বল্প সময়ের শাসনামলে বাংলাদেশকে একটি নতুন দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর ১৯ দফা কর্মসূচি শুধু একটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়, এটি একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের প্রকাশ। তাঁর আদর্শ ও কর্মসূচি আজও বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত।